সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৮নং তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী জয়নুল ইসলাম। বড় বড় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার কারণে এলাকায় পরিচিত মুখ হিসেবে জয়নুল ইসলামকে দেখছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কিছু কাঁচা রাস্তা চলাচলের উপযোগী করতে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করেছেন। পাশাপাশি অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে বিভিন্ন সময়ে নিজ অর্থায়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
নিজের নির্বাচনী ভাবনা তুলে ধরে জয়নুল ইসলাম বলেন, “প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজের মূল্য অনেক বেশি।” তিনি বলেন, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চান না, যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। বরং যে কথা বলবেন, তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। কোনো কারণে ব্যর্থ হলে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতেও প্রস্তুত তিনি।
রাজনীতি প্রসঙ্গে জয়নুল ইসলাম বলেন, রাজনীতিকে তিনি কখনো ব্যবসা হিসেবে নেননি এবং ভবিষ্যতেও নেবেন না। জনগণের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও গচ্ছিত আমানতের মর্যাদা রক্ষা করে সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উন্নয়নে যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে চান
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ৮নং তোয়াকুল ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কাঁচা রাস্তা সংস্কার ও জনসাধারণের চলাচল সহজ করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দেওয়া এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জয়নুল ইসলাম।
তার মতে, ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি সুযোগ-সুবিধা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
যুব সমাজকে উন্নয়নের শক্তি হিসেবে দেখতে চান
জয়নুল ইসলামের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ইউনিয়নের যুব সমাজ। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় যুব সমাজ গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।
জয়নুল ইসলাম বলেন, “আমি চাই, আমাদের যুবকরাই হোক তোয়াকুল ইউনিয়নের উন্নয়নের মূল শক্তি।”
স্থানীয় কয়েকজন সাধারণ নাগরিকের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে কাজ করা এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগগুলো ইতিবাচকভাবে দেখছেন তারা। তাদের মতে, ইউনিয়নের উন্নয়নে রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং অসহায় মানুষের সহায়তার বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের অধিকার, সম্মান ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে চান বলেও জানিয়েছেন জয়নুল ইসলাম। তার কাছে চেয়ারম্যানের পদ কোনো ক্ষমতার আসন নয়; বরং জনগণের আমানত এবং মানুষের সেবা করার একটি সুযোগ।
নিজের নির্বাচনী দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কাছে শুধু ভোট চাইবো না, আমি আপনাদের কাছে জবাবদিহিতাও করবো।”
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে ৮নং তোয়াকুল ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জয়নুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেছেন।
তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জনগণ কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন, তা নির্ধারিত হবে ভোটারদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। জয়নুল ইসলামের কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা—এসব বিষয়ই বর্তমানে ৮নং তোয়াকুল ইউনিয়নের নির্বাচনী আলোচনায় স্থান পাচ্ছে।